সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট হাতে পেতেই চক্ষুচরক ডাক্তার, পেটেতে রয়েছে চারটি মোবাইল

সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট হাতে পেতেই চক্ষুচরক

কথায় আছে চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পর ধরা। চুরি করার কত রকমের কৌশল যে আছে, তা চোরেরাই জানেন। পুলিশের চোখে ফাঁকি দিতে চুরি করা জিনিস বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখে। তবে কখনো শুনেছেন, পেটের ভিতর কোনো জিনিস লুকিয়ে রেখেছে? শুনে নিশ্চই অবাক হচ্ছেন। তবে এটা সত্য যে এক চোর পেটের ভিতরে একটি সেল ফোন লুকিয়ে রেখেছিল (4 Mobile Phone Found Inside The Stomach) । বিষয়টি ধরা পড়তে পুলিশ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অবাক। চলুন প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।

Keypad mobile

ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের (Bihar) তিহার জেলে (Tihar Jail)। যেখানে ‘কুখ্যাত ডাকাত’ (Notorious Robber) রমন সাইনিকের (Raman Sainik) পেট থেকে পাওয়া গেছে চার চারটি সেল ফোন। আসলে রমন সাইন নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রায়শই তাঁকে জেলে হাজিরা দিতে হতো। প্রসঙ্গত, প্রতিবার যখন জেলহাজিরা দিতে যেতেন, তখন তাঁর শরীরে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ (Metal Director) ছুঁইয়ে দেখা হত। এর মাধ্যমে দেখা হতো তাঁর শরীরের কোনো ধাতব জিনিস রয়েছে কিনা। বিষয় হচ্ছে অভিযুক্তের পেটের কাছে যতবারই এই যন্ত্র ঠেকানো হয়েছে ততবারই ‘বিপ বিপ’ শব্দ হয়েছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাঁর শরীরের কিছু রয়েছে।

এরপরই আদালত থেকে জেলে ফিরে আনা হয় রমনকে। এই জেরার মুখে পড়ে রমন স্বীকার করে নেন যে তাঁর শরীরের মোবাইল ফোন রয়েছে। আসলে ৬-৭ মাস আগে তিনি এই জেল থেকে ৪টি মোবাইল চুরি করেছিলেন। তবে জেলে বিচারাধীন অভিযুক্তদের কাছে যেহেতু ফোন রাখার অনুমতি থাকে না। ফলে তিনি ফোনগুলি পেটের মধ্যে চালান করে দেন। রমনের পরিকল্পনা ছিল পরে বমি করে ফোন গুলি বের করে নেবে। তবে তাঁর আগেই সব ধরা পড়ে যায়।

Phone

ক্রমাগত ‘মেটাল ডিটেক্টর’-এর এই ধারণা করা হয় তাঁর পেটে সত্যি কিছু রয়েছে। রমন সত্যিটা স্বীকার করে নিলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে তাঁর পেটে ০.৬ ইঞ্চি বিশিষ্ট লম্বা চারটি মিনি সেল ফোন রয়েছে। তারপরই অস্ত্রোপচার (Surgical Operation) করা হয়। তবে এই অস্ত্রোপচারে মাত্র দুটি ফোন বের করা গেছে এবং অন্যদুটি ফোন পাকস্থলীর নলে আটকে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরো জটিল অস্ত্রোপচারের মাধমে এই ফোন দুটি বের করা সম্ভব। তবে এই দুটি ফোন আপাতত শারীরিক কোনো সমস্যা করবে না।

Related Articles

Back to top button