স্বামীর জীবন বাঁচাতে ৬৫ বছর বয়সে ম্যারাথন দৌড়লেন মহিলা

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক খুবই মূল্যবান। উভয়ে একত্র না হওয়া পর্যন্ত কোন গন্তব্য অর্জিত হয় না। দুজনের জীবন একে অপরকে ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারে না, এই জিনিসটিও শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। স্ত্রী ছাড়া স্বামী কোনো যজ্ঞ বা অনুষ্ঠান করতে পারে না। ভগবান শ্রী রাম যখন রাজসূর্য যজ্ঞ করেছিলেন, মা সীতার অনুপস্থিতিতে। তিনি তার পাশে সীতা মায়ের একটি সোনার মূর্তি স্থাপন করেছিলেন, যার পরে যজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছিল।

ভগবান শ্রী রাম চাইলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে এই যজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর ধর্মীয় স্ত্রীর প্রতি ভক্তি অব্যাহত রেখে তিনি আইন অনুসারে মূর্তিসহ রাজসূয় যজ্ঞ সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে, পৌরাণিক কাহিনীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কীভাবে অনাদিকাল থেকে স্ত্রীরা তাদের স্বামীর জন্য লড়াই করে।

এই ভারতবর্ষটি সাবিত্রীর ভারতবর্ষ ছিল, যিনি তার সত্যবানকে নিরাপদে কালের মুখ থেকে বের করেছিলেন। অনাদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত এদেশে এমন অনেক সাবিত্রী আছেন যারা সত্যবাদী মানুষের জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করেছেন। আজকের গল্পটি এমনই একজন সাবিত্রীর, যিনি তার স্বামীর জন্য কিছু করেছেন। মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা লতা খারে (Lata Khare), যার স্বামীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল।

হাসপাতালটা দূরে থাকায়, কোনোরকমে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসক রোগীর এমআরআই করার কথা বলেন এবং খরচের কথা বলেন ৫ হাজার টাকা। দরিদ্র বৃদ্ধা ভাবতে থাকেন কোথা থেকে এত টাকার ব্যবস্থা করবেন। তিনি কিছু লোকের সাহায্য চাইতে থাকেন। গ্রামের এক ব্যক্তি সাহায্যের নামে পরামর্শ দিলেন, পাশের গ্রামে ম্যারাথন চালানো হচ্ছে, বিজয়ী পাবেন ৫০০০ টাকা।

তিনি সেই পরামর্শ অনুসরণ করেছিলেন। তিনি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে দেখে লোকেরা বেশ অবাক হয়েছিল। এটি বাকি প্রতিযোগীদের জন্য একটি রেস ছিল কিন্তু লতার (Lata Khare) জন্য এটি তার স্বামীকে সুস্থ করার শেষ উপায় ছিল। এই দৌড়ে লতা তার সবকিছু দিয়ে লড়ে গেছেন।

যে বয়সে তার নাতি-নাতনিদের সাথে খেলার কথা। সেই বয়সে তিনি তার স্বামীর জন্য দৌড়েছিল। লতা সাহস হারাননি, তিনি খালি পায়ে দৌড়াতে থাকেন এবং ৩ কিমি ম্যারাথন জিতে সবাইকে চমকে দেন। সেখানে উপস্থিত সকলেই লতার সাহসকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। লতাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে যার নাম ‘লতা ভগবান খারে’।

Related Articles

Back to top button